ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ , ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিখোঁজের দুই দিন পর স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার রাজশাহী বিভাগের চাষি ও কৃষি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর মতবিনিময় আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারী ছুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তিন দিন পর সোনামসজিদ বন্দরে কর্মবিরতি প্রত্যাহার, শুরু আমদানি-রপ্তানি প্রতিবেশীর বাড়িতে গ্যাসলাইট আনতে গিয়ে কিশোরী ধর্ষণের শিকার আগামী ২৩ ডিসেম্বর এইচএসসির সম্পূরক পরীক্ষার ফলাফল সুইডিশ সরকারের বৃত্তি বিনা খরচে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ দক্ষিণী সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্ফোরক রাধিকা আপ্তে সেন্সরের ছাড়পত্র পেল সালমানের মাতৃভূমি’র ট্রেলার, মুক্তি ৬ নভেম্বর ভৌতিক ছবিতে ভূমি পেডনেকর, শুরু হচ্ছে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি মান্দায় পাল্টে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপথের চিত্র, কাজের মানে এলাকাবাসীর স্বস্তি কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য : কৃষিমন্ত্রী নওগাঁয় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য গ্রেপ্তার আধিপত্য বিস্তারে সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান জে-২০-তে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে চীন পুলিশের এএসপি হলেন ৬৭ কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবার মান বাড়াতে আরএমপি কমিশনারের নির্দেশনা নাটোরের লালপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা রোনালদোর দেশজুড়ে এক দিনে ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু

কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে কৃষকদের সেই ‘গোলাঘর’

  • আপলোড সময় : ২১-১২-২০২৫ ০২:২২:৫৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-১২-২০২৫ ০২:২২:৫৩ অপরাহ্ন
কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে  কৃষকদের সেই ‘গোলাঘর’ কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে কৃষকদের সেই ‘গোলাঘর’
গোলা ভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ- এটি গ্রাম বাংলায় প্রচলিত একটি প্রবাদ। বর্তমান সময়ে পুকুর ভরা মাছ থাকলেও নেই কেবল গোলাভরা ধান। কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য কৃষকদের ধান রাখার সেই ‘গোলাঘর’।

শস্য ভান্ডারখ্যাত দেশের বৃহত্তর নওগাঁ জেলা। এই জেলা ১১টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। মান্দা উপজেলার প্রাচীন ঐতিহ্য ধানের গোলা আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এ অঞ্চলের কৃষকের ধান রাখার জন্য ধানের গোলা তেমন আর চোখে পড়ে না। আগে কৃষক বলতে গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ ও গোলা ভরা ধান এখন প্রবাদ বাক্যে পরিণত হতে চলেছে। অতীতে গ্রামবাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক ধানের গোলা এখন বিলুপ্ত প্রায়।

 আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে কৃষিক্ষেত ও কৃষকের ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা। অতীতে গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে ধান মজুদ রাখার জন্য বাঁশ, বেত ও কাদা দিয়ে তৈরি করা হতো গোলাঘর। এর পর তার গায়ে ভিতরে ও বাহিরে বেশ পুরু করে মাটির আস্তারণ লাগানো হত। চোরের ভয়ে এর মুখ বা প্রবেশ পথ রাখা হত বেশ উপরে।এক সময়ে সমাজের নেতৃত্ব নির্ভর করত কার কয়টি ধানের গোলা আছে এই হিসেব কষে। শুধু তাই নয় কন্যা ও বর পক্ষের বাড়ির ধানের গোলার খবর নিতো উভয় পক্ষের লোকজন। যা এখন শুধু কল্পকাহিনী। গোলাঘর দেখা যেত অনেক দূর থেকে। জানা গেছে, একটি গোলাঘর তৈরি করতে খরচ হতো ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুমে কৃষাণিরা গোলাঘর লেপে (মাটির আস্তর) প্রস্তুত করে রাখতো। আগের দিনে গোলাঘর দেখে অনুমান করা যেতো এলাকায় কে কত বড় জোতদার। গোলা ঘরের বদলে মানুষ এখন চট ও প্লাস্টিকের বস্তায় ধান ভরে ঘরে মজুদ রাখছেন।গোলা নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় আগে দক্ষ শ্রমিক ছিল। এখন আর দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে আসা গোলা নির্মাণ শ্রমিকদের দেখা মেলে না। তারা বাড়িতে এসে বাঁশ দিয়ে তৈরি করত ধানের গোলা। কাজ না থাকায় এখন তারা ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছে।এই গোলা ছিল সমভ্রান্ত কৃষক পরিবারের ঐতিহ্য। সে সময় ভাদ্র মাসে কাদা পানিতে ধান শুকাতে না পেরে কৃষকরা ভেজা আউশ ধান রেখে দিতো গোলা ভর্তি করে।

গোলায় শুকানো ভেজা ধানের চাল হত শক্ত। কিন্তু সম্প্রতি রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও আধুনিক কলের লাঙ্গল যেন উল্টে পাল্টে দিয়েছে গ্রাম অঞ্চলের চালচিত্র। গোলায় তোলার মত ধান আর তাদের থাকে না। গোলার পরিবর্তে কৃষকরা ধান রাখা শুরু করেছে আধুনিক গুদামঘরে। নতুন প্রজন্মের কাছে গোলাঘর একটি স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।এ ব্যাপারে মান্দা উপজেলার নুরুল্যাবাদ মীরপাড়া গ্রামের ইকবাল জানান, গোলাঘর একটি পুরোনো ঐতিহ্য এটা আমার দাদার স্মৃতি এটা ১০০ বছরের পুরোনো আমার বাবা ব্যবহার করতো তার পর বর্তমানে আমি ব্যবহার কি এই গোলাঘর প্রায় (হারিয়ে) গেছে। একই গ্রামের অপর একজন বয়োবৃদ্ধ (মরিজান ) বলেন, আগে চরায় কাম কইরা জিরাইবার নেইগা গায়ের ধনী মানসে ঘরে কাচারি ঘরে গামছা পাইরা হুয়া থাকছি। এহুন ঠান্ডা নাগাইনা (এসি) কাচারি ঘর বানায়া তালা দিয়া থোয়।বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর।তারা জানান, আগের দিনে ধান রাখার জন্য গোলাঘর ব্যবহার করা হতো। গোলাঘরে ধান রাখায় ইঁদুর ও পোকামাকড়ের উৎপাত থেকে ফসল রক্ষা পেতো। একটি বড় গোলা ঘরে সাধারণত ২-৩শ’ মণ পর্যন্ত ধান রাখা যেতো। উপজেলার কয়েকটি বসত বাড়ির আঙ্গিনায় এখনো দেখা মেলে গোলাঘরের। তবে এতে এখন আর ধান রাখা হয় না। গ্রাম-বাংলার এ ঐতিহ্যটুকু শুধুই স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন তারা।

 আগামী প্রজন্মের কাছে গোলাঘর একটি স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। আধুনিক গুদাম ঘর ধানচাল রাখার জায়গা দখল করছে। ফলে গোলা ঘরের ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলা থেকে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবার মান বাড়াতে আরএমপি কমিশনারের নির্দেশনা

রাজশাহীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবার মান বাড়াতে আরএমপি কমিশনারের নির্দেশনা